top of page

0008# হ্যাপি হরমোন বালিতে গর্ত খুঁড়ছে

  • Writer: Sutarang Prakashana
    Sutarang Prakashana
  • Jul 22, 2020
  • 2 min read

Updated: Jul 23, 2020








সায়ন্তনী ভট্টাচার্য


নেশাঃ লেখালিখি

পেশাঃ লেখালিখি


© সায়ন্তনী ভট্টাচার্য


শ্রাবণের একশো তিন জ্বর

তুতেনখামেন ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলেন

বললেন ‘আদর করো’। টুকুস টুকুস কাঁপছিল ঝাউপাতা

চুমুকের মধ্যে যেটুকু চুমু ছিল, আর ছিল ফাঁপা বাউন্ডারি

কিছুতেই চাঁদ উঠছিল না, জোনাকির ম্যাজিকে মেডুসা চুল খুলে দিল

আদরের মধ্যে বালিব্রিজ, আমবাগান, ভিটের মাঠ চোখে পড়ছিল

আর মেডুসার অন্ধকার চুল, চুলের তরঙ্গ, আকাশবাণী ঘোষণা করল সমুদ্রে ঘুর্ণাবর্ত

এসব ভালোবাসার মেঘে তুতেনখামেন বললেন ‘ঘর দাও, সংসার দাও

এসো একসঙ্গে বাজার করি। তুমি ভ্যাকুয়ম ক্লিনার চালাও

আমি তোমার পরীর আয়ুতে মুখ রাখি’। মেডুসার ভোরের ভুল হল

জোনাকির ম্যাজিকে আধভেজা চাঁদ ফিক করে হাসল তখন

❑ নৌকো আর বিষ

পেত্নী তার অক্ষরেখা বরাবর চক্কর কাটে

রাতে ঘুমোয় না, সকালে কবর খুঁড়ে ঘিলুপচা মাংস তুলে খায়

ছেড়ে যাওয়ার কথা শুনলে কাঁদে। তার মাথায় উকুন আছে

এসব উকুনের কথা জানত হ্যামলেট। বেহালা বাজিয়ে সে

পেত্নীর বাড়ির সামনে এনামেলের থালা রেখে দিত

সে থালায় ভিক্ষা পড়ত। টুকটুকে এক উলকুশ পাখি

টি দিতে দিতে আকাশের খাঁজে, ফাঁকে-ফোঁকরে ছড়িয়ে পড়ত

পাহাড় থেকে নেমে আসত নীল রঙের মস্তবড় ‘কিছু’

‘কিছু’ তার প্রসারের মধ্যে অক্ষরেখাকে ঢুকিয়ে নিতো

এমন সময়ে পেত্নীর ঘুম আসত

নৌকো আর তার সবুজ জলের কথা ভাবতে ভাবতে

সে স্বপ্ন দেখত ঢেউ, স্বপ্ন দেখত বিষ

❑ হাড় জিরজিরে একটা স্বপ্ন

কাঁধের ওপরে যা বসানো আছে তা কি আমারই মাথা

মনে হয় আমি কোনও ভাঙা দাঁড়কাক

আর গ্রীষ্মের রাতে খুব হাওয়া চাইতে চাইতে

আমি ঘুমিয়ে পড়ছি। ঘাড়ের মধ্যে অনেক পেরেক পোঁতা আছে

পেরেকে ঝোলানো পতাকা, ক্যালেন্ডার, ফাটা সসপ্যান

খাটো মানুষের রান্নাঘরে অল্প অল্প আলো জ্বলছে

পরী এ’বাড়ি ও’বাড়ি ডিঙিয়ে যাচ্ছে, হাই তুলছে

মনে হয় পৃথিবী বড় কোনও জলের ড্রাম, মিউনিসিপালিটির জলে ভরে আছে

আমার যা কিছু রঙীন সব পলিথিনে রাখা

❑ ফকফকে ক্লান্তি আর ঘুম

ঘর ভেঙে ফেলা রোদ উঠেছে। যে পোকার রং লাল

সে রোদ দেখে আরো কিছু রক্ত বাড়িয়ে নিলো, যে পোকার রং নীল

সে আরো কিছু নীল হল। ভিতরবাড়িতে অল্প আগুন লেগেছে

দমকলের গাড়ি ছুটে আসছে আঁচ নেভাবে বলে। আমাদের দেখা নেই

কথা নেই, আমাদের ঘেন্না আছে, নর্দমা আছে। একবুক নোংরা জলে

ঘুম ভাঙছে। ডেকরেটর ভালোবাসা টাঙিয়ে দিয়েছে। তাকলামাকান মরুভূমিতে

আমার চকোলেট স্টোর। হ্যাপি হরমোন বালিতে গর্ত খুঁড়ছে। হারিয়ে যাওয়া উট

আহা, মরীচিকা মেখে মরুদ্যানের উট আর কিছু ঘোরমাখা উচ্ছের চচ্চড়ি নিয়ে

আমি রোদের মধ্যে ঢুকে পড়ছি

ঘর ভেঙে ফেলা রোদ উঠেছে, সারাজীবনের রোদ

❑ ভাত আর শাকসব্জি

চুনাপাথরের পাহাড়ে ঈশ্বর রঙের কিছু একটা বসে আছে

তোমার ডাকনাম কী? নুন?

আমার ঘামের মধ্যে যা যা কান্না আছে, সব এক একটা খিদের ছোবল

আর রাত বাড়লে রোজ আমগাছের নিচে মরে যাওয়া বেড়ালের ভূত

মাছের কাঁটা খোঁজে, তার বড্ড দেরি হয়ে গেছে

ন’ জন্ম কেটে গেছে পুকুরের খোঁজে

বদলে সে পেয়েছে একখানা শুকনো গর্ত

গর্ত হাহাকার করছে। তার বৃন্ত শুকিয়ে গেছে

এত শতাব্দী কেটে গেল, তার নরমে হাত রাখল না কেউ

এমন সময় চাঁদ বলল উঠবে। বেড়াল বলল ম্যাও

এমন সময় চুনাপাথরের পাহাড়ে শিকড় জন্মালো

জন্ম তেমন সহজ কিছু নয়। উপশিরায় ধাক্কা লাগে, রক্ত ভাঙে

ঈশ্বর রঙের কিছু একটা বলল ভাত খাবো

উঠোনে উনুন জ্বালা হলো


Comments


bottom of page