

ধ্রুবতারা ছোটো কবিতা চর্চার গ্রুপ
মে সংখ্যা ২০২০
সম্পাদকীয় -এর পরিবর্তে
আমন্ত্রণ
© আশীষ ঢালী
কাফিন থেকে দূরবিন দিয়ে দেখবো তোমায়,
মৃত্যু থেকে ফিরে এসে উড়িয়ে যাব বিজয় পতাকা।
তুমি তখন ছাতিম গাছের তলে অপেক্ষায় থেকো,
অনেক লাশের ভিড়ে তোমার মুখোশ ঠিকই চিনে নেব।
আদিম আমি অবিনশ্বর মৃত্যুভয় আমায় ছোঁয়নি কোনও দিন,
ক্লান্ত শুধুই তোমায় দেখে; আর কত বর্বর হতে পারো তুমি।
আমার কাছে তোমায় দেওয়ার আর কিছু নেই,
তোমায় শুধু আমন্ত্রণ জানাতে পারি
এসো একসাথে বসে একটু কচু শাক সেদ্ধ করে খাই।

অভিষেক পাল
মূলত চিত্রশিল্পী । স্থায়ী বসবাস উত্তর চব্বিশ পরগনার হাবরাতে । পেশা য় অর্ডন্যান্স ফ্যক্টরির শ্রমিক । পেশার সুবাদেই বিশ্বব্যাপী শ্রমিক শ্রেণিকে অনুধাবন করা এবং শিল্পের বিষয় হিসাবে চিত্ররুপে মান্যতা দিয়েছেন । এই সংখ্যায় চিত্রশিল্পীর কোয়ারেন্টাইন দিনগুলো জানলার কাচ দিয়ে সমাজকে চিত্রপটে উপস্থিত করেছে ।
...যুদ্ধের পরে পৃথিবী অনিশ্চিত ক্লান্ত হলেও, কোনও বনলতা আসেনি । তাই তো... সারিবদ্ধ পরিযায়ী বৃক্ষের ক্লান্তশ্বাস রাস্তা ধারে রক্তে লবণের ঘনত্ব বাড়ায় । 'জল-খাবার' - অনাহার শাখা-প্রশাখা নীরবে সহ্য করে সূর্যালোকে প্রতিফলিত একবিংশ সহস্র কিলোমিটার । হ্যাঁ ! আমাদের আরও পা চাই । পা আমাদের বিনা জল-খাবারে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে । আর এই 'লং-মার্চ' ফুলের কাঁটার মতো নিষ্ঠুর নাগরিক উপত্যকাকে নাড়িয়ে দেবে ।
হ্যাঁ! হ্যাঁ! নাড়িয়ে দেবে!
আইনের লাঠির আঘাতে বিশাল আকাশময় বৃক্ষের আর্তনাদ ক্রমশ ঝড় হতে থাকে । ম্যাজিক খেলার থালা বাজানো ক্ষুধার্ত বৃক্ষের আহার্য হয়েছে মোমবাতির শিখা । ‘পা ও ক্ষিদে’-র পারস্পরিক আর্তনাদে হয়তো অনেকে বেনামি লাশ হয়ে গেছে শহিদের বীজে । অদৃশ্য হয়ে জেনেছে ফসলের দালালি, রেশনের মজুতীকরন ।
সুড়ঙ্গ ভেদ করে সংসদীয় গনতন্ত্রের পাখি উড়ে আসে উড়ে যায় বন্টন নিয়ে । আর শ্রমিক বৃক্ষের সারি কাঠে পুষ্ট হয় ‘মৃত উপত্যকা ’-র কাফিনের জানলা ।
© শুভঙ্কর ও তুষার







