0014# পরিবার অহল্যার রূপ ধরে বসে থাকে
- Sutarang Prakashana

- Aug 9, 2020
- 3 min read

উমা মণ্ডল
বাড়ি চন্দননগরে।মাইক্রোবায়োলজিতে স্নাতকোত্তর।
© উমা মণ্ডল
❑ মরীচিকা
শ্মশানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বারকা নদীটি শীর্ণকায়; হাতে বলিরেখা গোনা যায় ।
শোক; জল থইথই স্রোত শুষে নিতে নিতে আজ নিঃস্ব আঁচলের রং শুষ্ক । যেন
বাদুড়ের গজ দাঁত তুলে নিয়ে গেছে জীবনের বাণী তার গাঢ় লাল আভা; আসলে
মায়ার চাকা বড়ো ঢেকে রাখে এই পৃথিবীর চোখগুলি
মায়োপিক হয়ে গেছে দৃষ্টিব্রহ্ম, তার ভাষা । সেই কালোত্তীর্ণ গুটি আজ নিশিঘুমে
পাতা খায়না; হয়না শব্দজন্ম, শুধু ঘুম । ডানা নেই; তাই সাদা পাতা নিয়ে কবি
ফ্যালফ্যাল করে দেখে কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে রেলপথ তার শূন্য বগিগুলি । কিশোরী
মেয়েটি আর কাশফুল নিয়ে ছুটে যায়না; ডাক দেয়না যাযাবর সাথে নিয়ে যাও...
❑ পরিক্রমা
মাতৃ-গ্রন্থি ছিঁড়ে উঠে এসেছি একযুগ হলো । বৃক্ষ নদী পার হয়ে পাহাড়ের শীর্ষে ;
আবার মাটির কেন্দ্রে ঘুরেছি চক্রের মতো । পাঁজরে বারুদ, কেটে গেছে ক্ষত: দাউদাউ
স্নান। সে এক জটিল অসুখের মতো; চুলেতে কাপড়ে হোলি খেলে । বেহালার ছড় টেনে
সকাল বিকাল গজলের কান্না: চুপ যাও রাত্রি কেটে যায় ,চৈতন্য পাবো না
রাত্রি-মথ গুঁড়ো গুঁড়ো করেছে কাব্যের গন্ধ, শুঁকে যাই হাঁটা পথে মাইলস্টোন দেখে ।
জীবন তুলিকা মুছে যাবে ? সাগরের অট্টহাসি শুনতে পারবো না কালিকা; একবার
দোয়াত দাও ডুবিয়ে রক্তের, পুরাণের খণ্ড জুড়ে দেবো ।
বন্দরে নিশান ওড়ে আজও; সামনে মায়া-সিঁড়ি, আলুথালু পথ কাঁটাময়... হামাগুড়ি
দিয়ে পার হবো, নাকি সবল পায়ের পাতা ফেলে গুণে গুণে ঘর মেপে ত্রিকালজ্ঞ ?
ভয় পায়, শিরদাঁড়া বেয়ে পেঁচার চিৎকার; তুলে নেয় শৈশবের ছড়া রাত্রিডালে ।
যেভাবে এনেছে নাড়ি ছিঁড়ে, মরা জ্যোৎস্না ভেজানো রাতে এই অপাংক্তেয় অধ্যায়টি
ভয় হয় ।
তবুও ঋষির বেদমন্ত্র মিথ্যা নয়; মোহ থেকে দেহ থেকে উড়ে যাবো পঞ্চভূতে,
রূপান্তর ডাক দেয় । মাতৃ-গ্রন্থি দরজা খোল ঘুম পায়
❑ শিকার
জিভে টেনে নিয়ে গোটা একটা জীবনের
শস্যক্ষেত মুখে পুড়ে দিল সরীসৃপ;
মায়াচ্ছন্ন রাত
ধ্রুবতারা নেই; হু হু করছে...
কানা কড়ি নেই হাতে যে লোভ দেখাবো কালপুরুষকে
গর্তের ভিতর শ্যাওলা পুরু হয়ে বসেছে; এখন
মাথা নীচু করে বসি
আষাঢ়ের কাল
জল বেয়ে বেড়ে উঠছে সবুজ ধানের শীষ ;
দালানের কোল জুড়ে সন্তানের মুখ
মা লক্ষ্মীর হাঁড়ি জ্যোৎস্না হয়ে জড়ি বোনে
তাঁতির কুটিরে ।
রেশম কীটের কান্না কেউ শুনতে পায়না
এখানে শস্যের গর্ভে বিষ...নীল তুঁতে ছেয়ে গেছে ভবিষ্যৎ
অক্ষরের সমাধিতে দো-আঁশের সর তুলে দী ;
যদি বীজ আসে
নিম গাছ থেকে চলে যাবে আত্মহত্যার ইচ্ছারা...
❑ শ্রাবণের ইতিকথা
পড়ে আছে শোক
সমাধির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জল কান্না নয়
ইতিকথা শ্রাবণের...
ধুয়ে মুছে দেয় ভিটেবাড়ি, রান্নাঘর
এখনও হাঁড়িতে জ্বলজ্বল করে সাদা ভাত
কবি বলে সূর্য ফুটে আছে ।
খাতা ভর্তি করে তুলে নেয় জ্বলন্ত নক্ষত্র
বীজ থেকে মায়াগাছ; রাশি রাশি ফল তুলে দেয়
ইভের আঁচলে ।
আদিমাতা জানে ফিরে যাবে কবি খালি হাতে
শূন্য প্রেমিকের চোখ অভিশাপ; সেই গুহাপথ
গুপ্ত জলে স্নান করে নেয় ঘরে ফেরা কবিতারা
বসে পড়ে উপনিষদের পাশে, নতমুখ
দেখেনি চোখের ভাষা কেউ
কোন এক শ্রাবণের জল বুকে ডেকে নেয়,
নিঃস্ব কবি শুয়ে পড়ে ছাতিমের কোলে
একতারার শব্দ ওঠে জল ভেঙে, ইতিকথা হয়ে...
❑ মাঝেরহাট ব্রিজের তলা থেকে বলছি
ক
ভাতভর্তি থালা নিয়ে বসে শ্রমিকের দল
একহয়ে মুখে তোলে সূর্যের দহন, রাতের শীতল হাওয়া
বড়ো হাঁ মুখেই নোনাঘাম লালা হয়ে নেমে আসে
চেটে নেয় একে অপরের আপামর হাড়ভাঙা
খাটুনির ক্ষত
সেই স্বাদ অমৃতের মতো; পুঁজ রক্ত পার হয়ে
হাতে তৈরি সাদা রুটি চাঁদ হয়ে জেগে থাকে
আত্মার গহীনে
তারপর স্বপ্নে ভাসে ভিটেমাটি, লাল মেঝে
ইটের গাঁথনি বাকি আছে; গেলবার বান এসে
কেড়ে নিয়ে গেছে চারাগাছ
সেই থেকে পরিবার অহল্যার রূপ ধরে বসে থাকে দালানের গায়ে
অন্তঃসলিলা জলের ধারা বুক চিরে গঙ্গা সৃষ্টি করে না; শোকের পাড়ে
বসে থাকা মৃত মাছ বলে দেয় এবছর অরন্ধন হবে না, তবুও
বেঁচে থাকা কালাশৌচ নিয়ে
লোকে বলে দিনকাল চলে যায়, জলে ভেসে যায়...
খ
স্বপ্ন ভেঙে পড়ে সেতু হয়ে...
এই রক্ত ডুব দেয় কালোজলে; পাঁকে খেলা করে সরীসৃপ
ভাদ্র মাস শেষ হয়নি এখনও; আপডেট দেবে লক্ষ চাতকের দল
কতদিন চেটে দেখেনি মৃতের বাসি রক্ত
তার থেকে মুখে তুলে নাও আস্ত সংসারের ভিত
আস্তে আস্তে খেয়ে দেখো স্বাদ পাওতো, পাওনা
আমাদের ভাত ভাসে জলে খই হয়ে...
শব হয়ে আছে দিনকাল
হয়তো ভেসেই যাব টাকার ভেলায় ।
পরিবার অহল্যার রূপ ধরে প্রতীক্ষায়
বুক চিরে গঙ্গা বয়ে যাবে কথা দিয়ে গেলাম; মায়ের ঘট নিয়ে এসো
সপ্তমীতে, শুভ শারদীয়া
মৃত উপত্যকা কাঁদে শিরায়, শিরায়...



Comments