0005# সব শেষে আমি ডানা মেলে দিই
- Sutarang Prakashana

- Jul 22, 2020
- 2 min read
Updated: Jul 23, 2020

হারাধন চৌধুরী
পেশায় সাংবাদিক। নেশা কবিতা। নানা পত্রিকায় প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত কবিতার সংখ্যা হাজার দুই। কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা শূন্য। গল্পের ভাণ্ডার অল্পস্বল্প। গল্পগ্রন্থের সংখ্যা শূন্য। একটি প্রথম শ্রেণির বাংলা দৈনিকে প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা কয়েকশো। প্রবন্ধ সংকলন গ্রন্থ একটি: 'বাঙালি হাসছে চড়কীর হাসি'।
E-mail: toharadhan@gmail.com
© হারাধন চৌধুরী
❑ বৈরাগ্যসাধনের পীঠস্থানে ডানহাত রেখে
পায়ের নীচে একটা ভাত পড়লে
আট বছর আগে মৃত মায়ের মুখটা ভেসে ওঠে
কাছেপিঠে রেল লাইনের ধারে এনামেলের হাঁড়িতে ফুটতে থাকে রেশনের চাল
উথলে ওঠার আগেই পাকাঠি পাতালতা ধরে বর্ষার গান
আড়াইটেতে অনশন ভাঙার পণ নিয়ে যে ছ্যামড়া কোমর জলে দাঁড়িয়ে ছিল
তার জন্য অর্ধেক ভোজনের বরাদ্দটুকুও দূর গ্রহের একতারা
বৈরাগ্যসাধনের পীঠস্থানে ডানহাত রেখে
বহুকাল বাদে ভেজা চোখ মুছি
কাটা ঘুড়ির মতো উড়ে আসে আধ-শোয়া মুখে নরম আঁচলের টুকরো একটা
❑ নিকটবর্তী হচ্ছে কলরোল
পৃথিবী গজরাচ্ছে। পৃথিবী গজরাচ্ছে ভীষণ
তোমার কীসের ভয়?
ভয়ানক ভয় পেলেই সকলে এমন গজরায়
হাত-পা ছোড়ে, অস্ত্র শানায়
তুমি চোখে চোখ রাখো, বাঘ শিকারের নেশায়
খেয়াল করো, আমরা বন্যার তোড়ের বিপরীতে
খড়কুটোও নেই নাগালে, এই অকাল রাতে
দাঁতে দাঁত চেপে থাকো, খুব দরকার
নিকটবর্তী হচ্ছে কলরোল, বুকভাঙা কান্নার
আকুল কান্নাতেই খোঁজে পরিণতি অধিক গর্জন
❑ মরুদেশে শ্রাবণধারার স্বপ্নে
যে শাঁস খোসার সাথে চলে গেছে অভিসারে
ঠোঁটে তুলে দাঁতে কেটো না তাকে
তর্জনী লম্বা করো না ব্যথার মলমের দামে
কীটের খাদ্য কিছু তো হতেই হয়
মাটির বুকে পা রেখেছি আমি, যদিও
বুকে বুক সংলগ্ন রাখারই কথা আমাদের
পাতার কুটিরে পাতালের নিয়ম হয়তো
খাটে একবার, তবু ঘন মেঘের পিছনে
চরকি কাটি মরুদেশে শ্রাবণধারার স্বপ্নে
❑ সব শেষে আমি ডানা মেলে দিই
রোদ একবার ডানা মেলে
আমার সমস্ত পাপের মুখোশ খসে পড়ে যায়
ছায়া একবার ডানা মেলে
আমার সমস্ত ক্লান্তি একটা পর্ণকুটিরে প্রবেশ করে
ডানা মেলে অন্ধকার একবার
দিনভর জমা অহংকার কান্না হয়ে কোথাও ভেসে যায়
সব শেষে আমি ডানা মেলে দিই
পাখি চেয়ে চেয়ে দ্যাখে—
তার চেয়ে হালকা একজন উড়ে যাচ্ছে কী আনন্দে!
❑ রাত্রিগুলোই শুধু ক্ষণজন্মা কেন?
অন্তর্বাস কেচে ধুয়ে মেলে দেওয়ার সময়
তুমি একটা আড়াল খোঁজো। লোকাচার না মানলে
লোকালয়ে থাকবে কী করে! 'লোক' শব্দের সঙ্গে
'আচার' শব্দের সন্ধি হল বটে। তাতে কিছু
লোকের জিবে জল চলে এলে, সামলাতে পারবে?
এমন কথা বলতে পারো তুমি হলফ করে!
অন্তর্বাস নামক রহস্যের সাথে আচার
নামক রহস্যের একটা খুঁতহীন মিল খুঁজে
পেয়েছ কি এবার? বয়সের প্যারাগ্রাফগুলোতে
আঙুল ছুঁতে থাকো। দেখবে একবার অন্ধকার
খাদে আর দু'বার পর্বতশৃঙ্গে উষ্ণ ধাক্কা
খাচ্ছ। বালিশের নীচে লুকিয়ে রাখা বাৎসায়নের
অমর গ্রন্থের কয়েকটা সচিত্র পাতা হাইলাইটস
সমেত আগল খুলে দিচ্ছে। মনে মনে বলছ,
হা ঈশ্বর, রাত্রিগুলোই শুধু ক্ষণজন্মা কেন?
হা ঈশ্বর, রাত্রিগুলোই শুধু ক্ষণজন্মা কেন?



Comments