0004# রাষ্ট্র গাছ খুন করার পরও পবিত্র থাকে !!
- Sutarang Prakashana

- Jul 22, 2020
- 2 min read
Updated: Jul 23, 2020

শুভঙ্কর গাইন
মুক্ত আকাশে যাপন শুভ হোক
© শুভঙ্কর গাইন
❑ এই যে চাঁদ...
এই যে চাঁদ তুমি ওই
দিনমজুরি বস্তিটা থেকে চলে যাও।
এখানে সকলে আতঙ্কে আছে।
নোংরা কুৎসিত এলাকাটাও
উলঙ্গ শিশুদের পবিত্র আওয়াজে ভরে থাকতো।
কদিনের চাল বলো মজুত, রান্নার সামগ্রী।
তোমাকেই রুটি ভেবে গালাগাল দেবে নয়তো।
এই যে চাঁদ...তুমি সমস্ত দিনমজুরির বস্তি থেকে
চলে যাও...এবং এই মূহুর্তেই..!
❑ সভ্যতার অস্তিত্বে
খুন করা হয়েছে এবং খুনীরা সাজা পায়না...
রাষ্ট্র গাছ খুন করার পরও পবিত্র থাকে!
জানি পিরামিডের ধ্বংস, রোমের পুড়ে যাওয়া।
শব্দ উচ্চারণ করা মানুষ'কেও পুড়ে যেতে দেখেছি...
আগুনকে শুধু কেউ পোড়াতে পারে না কখনো।
আর সেই আগুনেই দূর্বল রাষ্ট্র পোড়ে, ছাঁই হয়।
সেই ছাঁই, নির্জন হাওয়া শূন্যে ওড়াতে থাকে, সাদা কালো আকাশের শূন্যে...
❑ পদ্ম-পাতা...
পদ্মপাতায় জল এনেছি তোমার জন্য, দেখবে সাঁতার দিয়ে ;
বৈশাখীর এক ঝড়ের বিকেল, কখন সময় পাড় হয়ে যায় ;
শ্রমিকরা সব দাড়িয়ে আছে স্টেশন জুড়ে।
পদ্মপাতায় জল রাখা কাঠের টেবিলে
শ্রমিক তার হাতুড়িটাও ফেলে গেছে...
তার জন্য পদ্মপাতায় আমার জীবন
আজও ছিড়ি পদ্মপাতা, নিস্তব্ধতায় ;
কাল বিকেলে করলে দেখা দিতাম তুলে,
তার হাতে আমার কিছু অশ্রুজমা।
শুকিয়ে যাবে পদ্মপাতা রাখবে কদিন?
কেউ কি রাখে! ধূসর বিষাদ উপহারে...
মুখোমুখি দেখা হ'লে হাতটা দিও...
পদ্মপাতার জল এনেছি আমার চোখে।
❑ একটি শিশির ফোঁটায়
অন্ধকারে তোমার নরম মুখ
পার্টি অফিসে আমার বন্দনা,
পতাকাটা শুধু বদলাতে আমি চাইছি
আর চাইছি পতাকাটাও আমায় বদলাক।
অভাবি মানুষ ক্ষুধার্ত হয় বেশি
সে'কথা জানি ফসল জানে না,
যে'ভাবে বদলায় আকাশে মেঘের শরীর
দেখেছিলো চাষি আর শ্রমিকের দৃষ্টি।
উৎপাদনের দিকেও আজ আর মন নেই
সৃষ্টিশীলতার ধ্যানও হয়েছে ভঙ্গ।
দারুন বাধা একটি শিশির ফোঁটায়
যখোন নিজেকে পরিশ্রমি পিপড়ে ভাবি।
❑ যাদের ভালো
যাদের বাড়ি ছাদ আছে এখোন তাদের ভালো।
যাদের বাড়ি চাল আছে তাদেরও।
যাদের স্বামী, বোন, মা, শিশু রাস্তায় হেঁটেছে।
একটা মহামারীর ভেতর থেকে একটা জীবনে পৌঁছতে চেয়ে।
অনেকে লাশ হয়ে গেছে, এই দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধে পৃথিবীর মানুষ ক্ষয়ে গেছে আপাদমস্তক।
উপমহাদেশের শ্রমিক জীবন ক্ষমতা হস্তান্তরের অন্ধকারে পচে আছে।
সে সব লাশের পোস্টমর্টামও হয়না...
❑ আর মৃত গাছে
ময়ূরাক্ষীতে চাঁদ ডুবে যায়। ইঁট ভাটাও বন্ধ।
অবরুদ্ধ চাকা ঘুরছে না, কোনোকিছুরই দৌলতে।
অর্থনীতির যেভাবে নামছে সেভাবে বাড়ছে মৃত।
শস্য শ্যামলা ভূ-প্রকৃতির সবটাই তাদের রক্তে।
সন্দেহ বাড়ে প্রিয় ম্যাজিস্টেট, কি হচ্ছে বছর বছর।
আমাদেরও মনে হয় আসলে কি হাল-হাকিকত হচ্ছে।
তোমাদের ঘরে ফল থাকে, ফল বাগানে পোড়ে চাষি,
শ্রমিক পৌঁছে দেবে বাজারে তোমার ঘর হয়ে,
আর মৃত গাছে। তোমার কৃষক নাগরিক আত্মহত্যায় ঝুলে থাকে।
❑ দুঃখ জানে
বৃষ্টি উধাও, দুঃখ জানে কৃষক হৃদয়
গঙ্গা জানে গঙ্গোত্রী হিমবাহ।
পলিটিক্স জানে আখের গুছিয়ে বাদ বাকির অবক্ষয়
রাষ্ট্র জুড়ে আমি দেখছি শুধু মৃত্যুর প্রবাহ।
একশো দিনের কাজ জানে বেঁচে থাকার দাবি
মনীষির বাণী বন্যা ও বানে যায় ভেসে।
আমিও ভাবি, তুমিও ভাবো, সবাই ভাবি,
পৃথিবীর বয়স বারে তাতে, কার কি যায় এসে।
আন্দোলনে আন্দোলনে ছয়লা এ দেশ।
চাষি বাঁচবে, বাঁচবে গাছ, বাঁচবে নদী।
কি আর হ'লো, হ'তে হ'তেও সময়ও শেষ।
আজ'কে আমিও মরে যাবো উধাও বৃষ্টি যদি!
❑ এই হৃদপিণ্ডে
যার কিছুই হারাবার নেই জীবনে।
সে কোনোদিন ভালো প্রেমিক হতে পারবে না।
এই শেষ না হওয়া শেষ কথাগুলো আবার বলতে হবে।
এইমাত্র যার সাথে কথা শেষ হ'লো।
আদতে শেষ হয়নি, ভেবেছিলাম শেষ হবে।
কি প্রমাণ করে জীবনে বাঁচতে হয় জানি না।
গালিব ভেবেছিলো, ভাষা হ'লো পৃথিবীর রঙ,
অনেকের বেঁচে থাকাকে ব্যাশারা তবু গালি দেয়...
আমায় বাঁচিয়ে রাখে সবুজ পাতার বাগান।
নোংরা রাস্তার পাশে একদল ঘাস।
পৌঁছতে পৌঁছতে এখন ভুলে গেছি পৌঁছানো।
যেখানে যাবার যাই, গেলে, পরে কি হবে জানি না।
জীবনানন্দের নষ্ট শশা, পচা চাল কুমড়ো কেউ দেখলো না, সবাই জীবনদায়ী ব্যাশা বনলতাকে দেখে!
আর ভাবে কবি কি সাধ'ই না নিয়েছিলো। আহা!
অথচ জানে না কতোটা দেয়ালভাঙা জীবন বইতে হয়, এই হৃদপিণ্ডে ...



Comments