0011# গাছ হয়ে নতুন চোখ নেমে পড়ে জলে
- Sutarang Prakashana

- Jul 23, 2020
- 3 min read

সন্দীপন দাস
জন্ম-১০ই মে, ১৯৯৩
জন্মস্থান- বনগাঁ জীবনরতন ধর মহাকুমা হাসপাতাল
প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়-'বনলতা' সাহিত্য পত্রিকায় ক্লাস নাইনে পড়ার সময় ১৪ বছর বয়সে বনগাঁ থেকে।
সম্পাদক-'বিবেকের আলোকে' সাহিত্যপত্র।
ইংরেজি ভাষায় স্নাতকোত্তর। বর্তমানে বি.এড.পাঠরত।
© সন্দীপন দাস
❑ প্রতীকী
নতুন চোখ জানলায় দেখছে উড়ছে আত্মদহনের গন্ধ,
ধুলোমাখা ইগোর আত্মজীবনী...
যারা ভাবে জানলার কোনো অস্ত্র নেই,তারা বোকা
এলোমেলো সমুদ্র হয়ে বারবার ফিরে আসে তারা
আর তাদের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দেখি একসময়
গাছ হয়ে নতুন চোখ নেমে পড়ে জলে
কি নিপুণতায় সাঁতার কাটে...
আমি আর শান্তনু দা...
পুরোনো চোখ জানলায় দেখছে শূন্যতা, নীল রং
দেখছে কয়েকটা মুখোশ,হঠাৎই পাখি হয়ে
আবারও নেমে পড়ছে জলে
হ্যাঁচড়-প্যাঁচড় করতে করতে ডুবেও যাচ্ছে
আমরা তা দেখছি না
দেখছি জলকে...
হেরে যাওয়া জানলাকে...
❑ কথন
শহরের যে দুঃখী সীমান্ত কেঁদে চলেছে অনেক
তার পাশে নীরবে গিয়ে বসি,তারপর লুকিয়ে রেখে আসি
গোপন দাঁত,নখ, রক্তের দাগ... এভাবেই তুমি রোজ বদলে
যাওয়া সময়... আমার আগামী...
তবু তোমাকে বলবার আছে,দ্যাখানোর আছে
প্রেম চেয়ে মুঠোভর্তি ছাই নিয়ে ব্যর্থ ঠোঁটে আমাদের বন্ধুদের
বাড়ি ফিরে আসা...ওরা সবাই হারটাকে ভুলে গ্যাছে...
আমি পারিনি... তবু স্বপ্নের কাছ থেকে, সকালের কাছ থেকে
সেই কবে হারিয়ে গিয়ে আমরা একলা হয়ে গ্যাছি... খুব একলা...
❑ কোরক
ঠিক এমনটা বারবার হবে।আমরা বন্ধুরা সাইকেল নিয়ে এক একজন আবারও হয়ে যাবো মুঘল সম্রাট-কেউ বাবর,কেউ শাহজাহান,কেউ আওরঙ্গজেব... ফুরিয়ে আসা শুন্যতা, সাঁকোর মনখারাপ কিংবা জলপিপি দেখতে দেখতে কখনও বিট্টু আমার কাছে জানতে চাইবে-'গোপে দা, শুন্যতা কি সবার জীবনেই আসে?আমারও...' স্বভাবতই চুপচাপ স্বভাবের মিঠাই দূরে একটা নাম না জানা পাখি দেখে চেঁচিয়ে উঠবে-'গোপে দা, ওই দ্যাখো কত নীল রঙ'-আমি মুচকি হাসি।এক অদ্ভুত আলো এরপর উঁকি দ্যায় আমাদের সব বন্ধুদের শরীর ফুঁড়ে...সেই আলো লেন্সবন্দী করতে গিয়ে আমি তলিয়ে যাই ঝরাপাতার দেশে-যেখানে আমার জন্য চুপটি করে অপেক্ষা করে থাকে ঝিঁ ঝিঁ পোকার কান্না, ঝরাপাতার একরাশ অব্যক্ত অভিমান কিংবা আলোর অসুখ... আমার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে... সানগ্লাসের সবুজ রঙ দিকভুল করে... অসহায়ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে বিট্টুর প্রশ্নের সামনে... আমি পালাতে চাই, পারি না...তার আগেই এসে হাত চেপে ধরে শুন্যতা, নীল রঙ...আমি মরিয়া হয়ে হাত ছাড়াতে চেষ্টা করি... ফিরতে চাই অজস্র রঙ করা মুখের দুনিয়ায়... পারি না, আবারও আষ্টেপৃষ্ঠে ধেয়ে আসে বন্ধু-বাতাস...দেখি বন্ধুরা একে অপরের কাঁধে মাথা রেখে অপলক চোখে দেখছে দিন ফুরোবার কাহিনী... ওদের মনের কোণে লুকোনো কোনো এক ভলক্যানোর দেশে বন্দী হয়ে থাকা রাজকন্যার নীল পাখি হয়ে উড়ে যাওয়া...আমি আবারও মুচকি হাসি।আমার হাসি দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয় শুন্যতা...সব বান্ধবীরা... সাঁকোর আবারও মনখারাপ হয়... ঝিঁ ঝিঁ পোকার কান্না মেখে ঘুমিয়ে পড়েন ঈশ্বর... আমরা বন্ধুরা আবারও হেরে যাই... আত্মসমর্পিত হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকি তোমার বসন্ত জুড়ে...আমরা এমনই, হেরে যেতে যে আমাদের বড় ভালো লাগে। হেরে যাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক অনন্ত অপেক্ষা... যেখানে বিট্টু আবারও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবে, মিঠাই আবারও পলিয়িস্টার প্রিন্স হয়ে চেঁচিয়ে উঠবে...আর আমি আবারও অসহায়ভাবে মুচকি হেসে দূরে সরে যেতে চাইবো... যেখানে আবারও একবার বন্ধু-বাতাস এসে চুপিচুপি আমাদের বলে দেবে আগুনকে বশ মানাবার মন্ত্র... শুন্যতাকে ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেবার গুপ্তকৌশল...
❑ ঐশ্বরিক
বুকের ভেতর চেনা নদী,ভাঙা পাড়, উদাসী যত ওড়া...
যেসব শব্দেরা কোনোদিন খুঁজে পায়নি কান্না
সেখানে পরজন্ম দাবি করতে করতে তুমি হয়েছো নির্বাণ সন্ধে,নীরব পথ...
কতবার বুঝিয়েছি আমি ঈশ্বর নই,পাগল প্রেমিক... তবু ঘরে ফিরতে চেয়ে পথহারা এক অন্ধ পাখি থমকেছে, ভিজে ঠোঁটে
শুনিয়েছে বন্ধুদের জমানো ব্যথা... তুমিও আনমনে বুঝি বুঝে নিয়েছো বেলাশেষের আলো,মুখর এ হাওয়া...
খোলা জানলা,মেঘ, বৃষ্টি, রোদ্দুরের গল্পকথা...
পুরোনো আর নতুন আকাশের মাঝে ভিজে যাচ্ছে ঘুমঘুম ওই চোখ, আমার লেখা সব কবিতা... তবুও তার ঠোঁট জুড়ে মায়াবী কথকতা, কবিতা হয়ে উঠতে চাওয়া চেনা শহর,না পড়তে চাওয়া প্রেম...
বুকের ভেতরে চেনা নদী, স্রোত, অসংখ্য ডিঙিনৌকো...
যেসব পুরোনো কথারা কোনোদিন ফিরে পায়নি আদুরে ডাকনাম,অভিমানী রাত কিংবা হারানো সূর্যাস্ত
সেখানে তরুণ কবি সব ছিঁড়ে ফেলতে ভালোবাসে...সব...
অভ্যাসী ঘুম, কাকভোর, অচেনা আলো, বেওয়ারিশ চুম্বন
লেখা এ কবিতাও...
❑ বৃত্তীয়
যেভাবে শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুমি গড়ে তুলেছো সন্ধের শরীর, ঠিক সেভাবেই আমিও গড়ে তুলেছি আমার ছলচাতুরী,
সব নির্মাণ কৌশল...
আলো ছুঁতে চাওয়া বন্ধুটির সারা শরীরে ভর করেছে পূর্বপুরুষের ছায়া... আমি মৌনতায় মুখ ঢেকেছি দুহাতে...
রাতবেরাত ঈশ্বর হতে চেয়ে দু'চোখ ভর্তি আগুন নিয়ে মাথা
কুটেছি এ দ্ধার থেকে ও দ্ধার...
তুমি কিচ্ছুটি বুঝতে চাওনি... সস্নেহে ধুয়ে দিতে চেয়েছো আজন্ম সব পাপ, ঠোঁট থেকে শুষে নিতে চেয়েছো লুকোনো
নীলরঙা বিষ...
আমি আবারও চুপ থেকেছি ...অপলক দেখেছি পূর্বপুরুষদের ছায়া আমার ছায়ার সাথে মিশে হয়ে উঠেছে অন্ধকার অলিগলি... গোপন বমি...
যেভাবে শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে তুমি গড়ে তুলেছো এ নগরী
ঠিক সেভাবেই আমিও হারিয়ে ফেলেছি পুরোনো সাঁকো...
জলের নীরবতা... ভীনদেশী গান...আর সব বন্ধুদের ফিরে যাওয়া...



Comments