top of page

0010# খাইখরচের একটা ব্যবস্থা ঠিক হয়ে যাবে

  • Writer: Sutarang Prakashana
    Sutarang Prakashana
  • Jul 23, 2020
  • 2 min read





সুধাংশু চক্রবর্তী

শিক্ষাগত যোগ্যতা – বিজ্ঞানে স্নাতক

কর্মজীবন – কর্মজীবন কেটেছে বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত অবস্থায় । ২০০৮ সালে চাকরী থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে অবসর জীবন উৎসর্গ করেছি সাহিত্যচর্চায় ।

প্রকাশিত বই – শিশুতোষ কবিতার বই ‘দুটি মন”, ক্ষুদ্র উপন্যাস – ‘শিরীন’ এবং অণুগল্পের বই – ‘সাঁঝতারা’


© সুধাংশু চক্রবর্তী


অণুগল্প


ছায়াছায়া শরীর

জালটা প্রায় গুটিয়ে এনেছিলো পরাণ মাঝি । সহসা এই শেষ বিকেলের পড়ন্ত রোদে, গাঢ় হলুদের ঝিলিক, ঝাঁঝিয়ে দিলো ওর চোখদুটো । তারপর থেকে শুধুই অন্ধকার ।

সোহাগী দাওয়ায় বসে ইনিয়েবিনিয়ে কাঁদছে । পরাণ মাঝি উঠোনে শুয়ে থেকেও, কেন শুনতে পাচ্ছে না স্ত্রীর বুকভাঙা কান্না ? অদ্ভুত নির্লিপ্ত চোখে, তাকিয়ে আছে নীল আকাশের দিকে !

খানিক পরই কিছু সাকরেদ নিয়ে, গ্রামের মাতব্বর বিজু মাঝি এসে দাঁড়ায় । সোহাগী গলা ছেড়ে কেঁদে উঠতে গিয়েও থমকে যায় । এই লোকটাই তো, ওকে সেদিন বাদাড়ে একলা পেয়ে... আজও তেমনই অদ্ভুত চোখে তাকাচ্ছে !

- জানতাম । কতবার হুঁশিয়ার করেছিলাম, ওদিকে যাসনে পরাণ । একটা মানুষখেকো নাকি... তুই ভাবিস না সোহাগী । খাইখরচের একটা ব্যবস্থা ঠিক হয়ে যাবে । সময় করে আমার সঙ্গে দেখা করিস তুই ।

দিন কয়েক পর সদ্যবিধবা সোহাগী, চোখের আগুন চাপা দিয়ে নির্লিপ্ত মুখে গিয়ে দাঁড়ায় মাতব্বরের দরজায় । ঘরের ভিতরে ঢুকে, দু-চারটে মামুলী কথাবার্তা চালাচালির ফাঁকেই, হাতের জাল গুটোতে থাকে সোহাগী । রাঘব বোয়াল । সামান্য অসতর্ক হলেই জাল ছিঁড়ে পালাবে ।

এরও দিন তিনেক পর, কাকভোরে অনেকেই শুনলো, গ্রামের আকাশ বাতাস কেঁপে উঠলো, হিঁ হিঁ হিঁ হাসিতে । বিল্লো মাঝি ঠিক তখনই, কাঁধে জাল নিয়ে এগোচ্ছিলো নদীর দিকে । সহসা দেখে, একটা হালকা ছায়াছায়া শরীর, মাতব্বরের উঠোন মাড়িয়ে, দ্রুত মিলিয়ে গেল পিছনের বাঁশঝাড়ে । দেখেই আতঙ্কগ্রস্ত বিল্লো এক দৌড়ে নিজের বাড়িতে ।

ঘন্টা খানেক পর, গ্রামের লোকজন নিয়ে বিল্লো এলো গ্রামের মাতব্বর বিজু মাঝির বাড়ি । এসে দেখে, বিজু মাঝি মরে পড়ে আছে ঘরের মেঝেয় ! চোখ দুটো ঠিকরে বেরিয়ে এসেছে অক্ষিকোটর থেকে ! দেখে সকলে স্তব্ধ হয়ে যায় । নীরবতা ভাঙলো, ভৌতিক হাসি... ছায়াছায়া শরীর ইত্যাদি গুজুরগুজুর ফুসুরফুসুরে । অবশেষে গ্রামবাসীরা একটা ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হলো, গত রাত্রে মাতব্বর নিশ্চয়ই, শ্মশানের সেই পেতনিটার কবলে পড়েছিলো ।


কি যেন দেবেন বলেছিলেন

ঠাম্মার ঘরটা সবসময় রহস্যেভরা মনে হয় অতনুর কাছে। ছোট্ট একটা কুঠুরি, তাতেই না জানি কত রহস্য লুকিয়ে রেখেছেন তিনি ! এক একদিন রহস্যের দোরগোড়ায় ঠেলে দিয়ে ঠাম্মা ওকে বলেন, এই দ্যাখ, তোর বাবার ছবি । চিনতে পারছিস ?

একটা বছর দেড়েকের কচি ছেলের ছবি দেখিয়ে অমন প্রশ্ন করলে, অতনু কি রহস্যের গন্ধ পাবে না ? আজন্ম বাবার গোঁফ সর্বস্ব মুখই দেখে এসেছে ও । আচমকা একটা কচি মুখ দেখিয়ে, ঠাম্মা যদি বলেন, ‘তোর বাবা’, তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায় ?

আবার একদিন, ঠাম্মা ওকে একটা অতি প্রাচীন নকশী কাঁথা দেখিয়ে শুধিয়েছিলেন, বলতো এটা কি ?

- কী আবার ? নকশী কাঁথা ।

- জানিস কে ব্যবহার করতো এই কাঁথা ? আমি । এই কাঁথায় শুয়ে বড় হয়েছি রে । আমার মা দিয়ে গেছেন মারা যাবার আগে । হি হি হি ।

মাস দুয়েক আগে ঠাম্মা ওকে বলেছিলেন, তোকেও এমন কিছুদিয়ে যাবো, যা তুই আজীবন মনের রাখবি । তাহলে আমার কথাও মনে থাকবে তোর ।

- কি দেবে গো ঠাম্মা ?

- রহস্য । রহস্য । সবুর কর নাতি । জানিস না, সবুরে মেওয়া ফলে ?


Comments


bottom of page