top of page

0007# আবার একটা ঝড়ের বার্তা

  • Writer: Sutarang Prakashana
    Sutarang Prakashana
  • Jul 22, 2020
  • 2 min read

Updated: Jul 23, 2020










নীলম সামন্ত

থানে, মহারাষ্ট্র


© নীলম সামন্ত


শিরোনামহীন অসমান্তরাল ১

।।চোখ।।

তুমুল বৃষ্টির পর পাখিটি উড়ে গেলে মেয়েটি জানালা জড়িয়ে শূন্যে তাকায়।।

।।শূন্য।।

আজ পূর্ণিমা অথচ আকাশে চাঁদ নেই।

।।চাঁদ।।

পুরোনো বই-এর পাতার ভেতর জমিয়ে রাখা প্রথম প্রেম।

।।প্রেম।।

জোয়ারভাটার মধ্যবর্তী নোঙর ছেঁড়া আলিঙ্গণ। কিংবা ঝুলিয়ে রাখা পায়ের নিচের চোরাস্রোত।

।।চোরাস্রোত।।

ভালোবাসার পর বৃক্ষে পরিণত হয়েছিল ছেলেটি। মেয়েটি ভোরের প্রার্থনা।

।।ভোর।।

প্রতিটা না হওয়া কবিতার পাশে থমকে যাওয়া হাত। হাতের ওপর বেড়ে ওঠা ছেলেবেলার ঝিঙেমাচা।

তুমি কি আজও কবিতা লেখো?


শিরোনামহীন অসমান্তরাল ২

।।আলো।।

নক্ষত্রলোকের পর আলো বলতে বুজেছি ফিনিক্স পাখির চোখ।

।।পাখি।।

সমস্ত দুপুর ঝড় হওয়ার পর একটা কাক ডেকে উঠল অকস্মাৎ। বৃষ্টি হলো। ভিজে গেলো নিসঙ্গ হেঁটে চলা।

।।হাঁটা।।

মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে যেভাবে ফুরিয়ে যায় জীবন; উপমাহীন গদ্য কিংবা অন্ধকারের ঝিঁঝিঁ৷

।।অন্ধকার।।

প্রতিটি গোপন সত্যেই ওপর এঁকে রাখা সবুজ কিশলয়।

।।সবুজ।।

যতটুকু জীবন আমরা দেখি না তার ওপর লিখে রাখা প্রবন্ধ৷

।।প্রবন্ধ।।

প্রবল উন্মাদনার মধ্যে বীজ বপনের চেষ্টা করা ঘোলাটে বিষন্নতা।

মেঘের সাথে কথা বলে দেখো খুঁজে পাবে স্বপ্ন রঙের নিজস্ব নদী৷

শিরোনামহীন অসমান্তরাল ৩

।।গাছ।।

পাখিটি গাছের ওপর বসে ভিজছে। গাছ প্রমোদ গুনছে।

।।প্রমোদ।।

খুব লম্বা একটা দুপুরে একমাথা রোদে হেঁটে যাবার সময় নাকের কাছে ধাক্কা খায় গরম ভাতের গন্ধ।

।।গন্ধ।।

বাড়িতে ধূপ জ্বললে মনে হয় ঈশ্বর এসেছেন।

।।ঈশ্বর।।

শূন্য। আসলে কিছুইনা। আবার অনেক কিছু।

।।শূন্য।।

দুটো জন্মের মধ্যবর্তী নোঙর।

।। মধ্যবর্তী।।

কোন সম্পর্কই আকাশের মতো নয়। অথচ কবিতায় আমরা অলৌকিক ফুল ফোটাই।

আমাকে পেনসিলের দাগ ভেবে মুছে ফেলতেই পারো ৷


ঝড় ও পূর্বাভাস

আবার একটা ঝড়ের বার্তা।

পূর্বাভাসের গা থেকে খসে পড়ছে

আধখানা বোতামের মতো চাঁদ।

ঝড় আসছে।

ঝড় আছে।

ঝড়েই আছি৷

মা বলেন "ভয় পেলেই পিছিয়ে আসতে হয়"।

আমিও মা।

আমার ভয় হয়।

আমাকে সামনে রেখে

সশব্দে খসে পড়ে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া

দু চারটে হলুদ বাদামী পাতা।

ব্যালকনির কুমড়ো গাছ গুলো

সবে মাত্র মাথা তুলেছে।

অনবরত হাসছে।

ওদের গায়ে লেগে নেই পূর্বাভাস।

লেগে নেই কাঁচের ফ্রেম ভাঙা ভয়।


ইতিহাস জানে

আর কিইবা খারাপ লাগতে পারে

যেভাবে ক্ষয়ের ভেতর হেঁটে চলেছি

ইতিহাস ভুলে।

খুবলে খাওয়া চাঁদের সামনে এলে

স্থবির হয়ে যাই।

ঘুম আসে। ঘুমের ভেতর অন্ধকার পুষি।

ছাতিমের গন্ধ।

পূর্বপুরুষের সাথে খড়মের গল্প।

দেখি দরজা খুলে যায়।

খারাপ লাগার কিছু নেই।

ইতিহাস জানে কিছু অল্প কথা

আর নিবিড় বিভাজনের পর

আমাদের তীব্র ঘুম পায়।


Comments


bottom of page