0003# প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় -এর দুইটি গল্প
- Sutarang Prakashana

- Jul 21, 2020
- 2 min read
Updated: Jul 23, 2020

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।
জন্মঃ ৮/২/১৯৭৯
জন্মস্থানঃ বাণীপুর।
শিক্ষাঃ সাহিত্যে স্নাতকোত্তর।
পেশাঃ শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা।
প্রকাশিত গ্রন্থঃ সুবর্ণা ও জানালার গল্প, এখনো মাঝরাতে জেগে উঠি, সফর, মায়াগাছ।
সম্পাদিত পত্রিকাঃ খবর৩৬৫,রিভিউ২৪,এবং আমরা,বাণীমঞ্জরী।
সম্পাদিত ওয়েব ম্যাগাজিনঃ বেঙ্গল রিভিউ ২৩
❑ একটি মাছ ও একটি বিড়ালের সাক্ষাৎ
© প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
কলেজ পাশ সুন্দরী রিনি সারাদিন বিছানায় বুকের নীচে বালিশ নিয়ে ওলোট পালোট করে। হাতে ফোন টক টক লেখার শব্দ করে। শুনে মনে হবে সঙ্গম শব্দে রিনি কেঁপে উঠছে।
মা দরজা ধাক্কা দিয়ে বলে, চান করবি না?
রিনি অগোছালো নাইটিটা সামলে উত্তর দেয়, ইচ্ছে করছে না।
দরজার ফাঁক দিয়ে মেনি বিড়ালটা এই সুযোগে সোজা বিছানায় রিনির বুক ঘেঁ
ষে বসে। বুক আর বালিশের মাঝে মাথা ঢুকিয়ে দেয়। আদর খায়।
দুপুরে খাওয়ার টেবিলে ঘুম ঘুম মুখে এলোমেলো চুল নিয়ে এসে বসে রিনি। তার ফর্সা গোঁড়ালির কাছে মাথা ঘষে মেনি। টেবিলের ওপর একটা বাটিতে একটা বাটা মাছ তেল আর মশলা মেখে রিনির অপেক্ষা করে। কিন্তু রিনি মোবাইল থেকে চোখ সরাতে পারে না। এখনও কি-বোর্ডে শব্দ হচ্ছে উত্তেজক।
মেনি অপেক্ষায় আছে, মাছটিও অপেক্ষা করে...
বিকালে চান করে পারফিউম লাগিয়ে রিনি বেরিয়ে পড়ে। রাস্তায় একটা দামী বাইক এসে দাঁড়ায়। তারপর দ্রুত গতির ছুট।
মেনি মাছটাকে সম্পূর্ণ খেতে পেরে খুশি। রিনি খায়নি। সন্ধ্যায় সে জগজিতের ফ্ল্যাটে খাবে। আজ জগজিতের বাড়িতে কেউ নেই।শুধু মেনির চোখের মত একটা লুকানো ক্যামেরা অপেক্ষায় আছে কিভাবে বিড়াল মাছ খায় তা ভিডিও করে রাখবে বলে...
❑ হারজিৎ
"অনেকদিন পর তার প্রোফাইল দেখলাম। মানে তাকেই দেখলাম। গোল মুখটা লম্বাটে হয়ে গেছে। চোখের কোলটা ভারী। চুলের পাক বোধহয় আমার ছোট্ট ফোনটায় ধরা যাচ্ছে না। "
"তারপর?"
"তারপর..প্রথমে ভাবলাম ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই। কিন্তু তারপর মনে হল কি দরকার! যে যেমন আছি থাকি। এতদিন পর.."
"তারপর কি করলেন?"
"সারারাত ঘুম এলো না। বউ মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। মাঝরাতে টুক করে উঠে ফেসবুকটা খুললাম। তারপর তার প্রোফাইল পিকচারটা কিছুক্ষন দেখলাম। এক সময় এই মেয়েটার জন্য পাগল ছিলাম! কত রাত ঘুম হয়নি, কত চিঠি লিখেছি। কত পাগলের মত ঘুরেছি। অথচ.."
"অথচ কি?"
" অথচ, আজ তার ফটো দেখে একটুও অন্য অনুভূতি হল না। আগেকার দিনে মোবাইল ছিল না, টুক করে প্রেমিকার ফটো তোলার হুজুকও ছিল না। অনেক কষ্ট করে কলেজের গ্রুপ ফটো জোগার করেছিলা
ম। কিন্তু এখন প্রোফাইল ঘেটে অজস্র ছবি দেখে মেলাতে পারলাম না তাকে। একই মানুষ তবু সেই অমোঘ টান নেই যাকে নিয়ে এতকাল এত কবিতা লিখেছি, যাকে এতকাল বহন করে এসেছি।"
" আসল কথায় আসুন। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন?"
"হ্যাঁ।"
"একসেপ্ট করল?"
"পরদিন সকালে একসেপ্ট করেই মেসেজ পাঠাল 'গুড মর্নিং'। আমিও রিপ্লাই দিলাম। কিন্তু আর উত্তর এলো না। সারাদিন অপেক্ষা করলাম। এবার যেন মনটা কেমন করে উঠল। বার বার অফিসের কাজের মাঝে ফোনটা খুলে দেখতে লাগলাম।"
"আর মেসেজ এলো?"
"হ্যাঁ। পরদিন সকালে মেসেজ এল,'তোমার নম্বরটা দেবে?’ আমি চমকে উঠলাম। আমি কতবার তাকে বলেছি, তো
মার জেঠুর ঘরের ফোন নম্বরটা দাও না! বুথ থেকে ফোন করব। দেয়নি। "
"আপনি কি করলেন?"
"আমিও সারাদিন চুপ মেরে থাকলাম। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের মধ্যে ফেসবুক খুলে দেখি তার অসংখ্য মেসেজে ইনবক্স ভরা। কেন জানি না পড়তে ইচ্ছে হল না।সোজা তাকে ব্লক করে দিলাম। খোলা জানলার হাওয়ায় বেশ মজা লাগল। একদিন যাকে ভালোবেসেছিলাম, যাকে নিয়ে আমার এত লেখালেখি, যাকে না পাওয়ার বিষাদকে আমি সম্পদ করেছি, সে এত সহজলভ্য হয়ে যাবে? আমি বোধহয় তাকে নয়, তাকে না পাওয়ার বেদনাকেই ভালবেসেছি এতকাল। আমি ভালোবাসার পরাজিত সৈনিক। এবার কিন্তু জিতে গেলাম। কি বলো?"



চমৎকার দুটি অণুগল্প পাঠ করলাম । লেখকের জন্য শুভেচ্ছা রইলো ।