0013# এখানে ঈশ্বর ছিল! ছাই হয়ে! বিস্ময় -অতীত
- Sutarang Prakashana

- Jul 29, 2020
- 3 min read

তৃষ্ণা বসাক
এই সময়ের বাংলা সাহিত্যের একজন তন্নিষ্ঠ কবি ও কথাকার। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, কল্পবিজ্ঞান, মৈথিলী অনুবাদকর্মে তিনি প্রতিমুহুর্তে পাঠকের সামনে খুলে দিচ্ছেন অনাস্বাদিত জগৎ। জন্ম কলকাতায়। শৈশবে নাটক দিয়ে লেখালেখির শুরু, প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘সামগন্ধ রক্তের ভিতরে’, দেশ, ১৯৯২। প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘আবার অমল’ রবিবাসরীয় আনন্দবাজার পত্রিকা, ১৯৯৫।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.ই. ও এম.টেক তৃষ্ণা পূর্ণসময়ের সাহিত্যকর্মের টানে ছেড়েছেন লোভনীয় অর্থকরী বহু পেশা। সরকারি মুদ্রণ সংস্থায় প্রশাসনিক পদ, উপদেষ্টা বৃত্তি,বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শী অধ্যাপনা, সাহিত্য অকাদেমিতে আঞ্চলিক ভাষায় অভিধান প্রকল্পের দায়িত্বভার- প্রভৃতি বিচিত্র অভিজ্ঞতা তাঁর লেখনীকে এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে।
প্রাপ্ত পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে- পূর্ণেন্দু ভৌমিক স্মৃতি পুরস্কার ২০১২, সম্বিত সাহিত্য পুরস্কার ২০১৩, কবি অমিতেশ মাইতি স্মৃতি সাহিত্য সম্মান ২০১৩, ইলা চন্দ স্মৃতি পুরস্কার (বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ) ২০১৩, ডলি মিদ্যা স্মৃতি পুরস্কার ২০১৫, সোমেন চন্দ স্মারক সম্মান (পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি) ২০১৮, সাহিত্য কৃতি সম্মান (কারিগর) ২০১৯ , কবি মৃত্যুঞ্জয় সেন স্মৃতি সম্মান ২০২০ ও অন্যান্য বহু পুরস্কার ।
বর্তমানে কলকাতা ট্রান্সলেটর্স ফোরামের সচিব।
© তৃষ্ণা বসাক
❑ ঘর
এখানে বৃষ্টি নামে, মেঘও ছায়ার মতো ঘন
লুকোনোর জায়গা নেই, এমনকি রাতের সিন্দুক
শপাশপ শপাশপ, সিপিয়া বা সাদায় কালোয়
হলুদ পাতার ছোপ,উল্টোপিঠে ১৯৭০...
পাড়া ছেড়ে চলে গেছে? লেকে ভাসে নামের পাথর
বিকেলে বাচ্চা ঠেলে, সন্ধেবেলা হাতরুটি গড়ে
সারারাত মাংস কষে,ভোর ভোর স্নান সেরে নেয়
বারান্দাও লজ্জা পাবে বৌটির এত খোলা গলা!
খাটের পায়ায় ব্যথা নড়ে ওঠে, সিলিং চৌচির
দু আঙুল ফাঁক ফাঁক ভাঙা কাচ,সাড়ে তিন হাত
গলার আঙুল দিয়ে বমি করি কাগজ পেনসিল !
নতুন বৃষ্টি হলে জিন্দেগিতে জানলায় যাব না।
❑ রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ
রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ লিখব বলে
সমুদ্রের ধারে এসেছি।
এই বাড়িটা সোনালি বালির নিচে উঁকি মারা
শাড়ির পাড়ের মতো ,
আমি এসেই ছাদে উঠে
রেডিও ঘোরাচ্ছি,
যদি আরো কিছু শোনা যায়,
কিচ্ছু শোনা যাচ্ছে না,
শুধু ঢেউয়ের কানফাটানো আওয়াজ;
বেড়ালগুলো বারবার ছাদে উঠে আসছে,
তাদের পায়ে -পায়ে ঝুরঝুরে কমলা বালি,
আমি বালি ভাস্কর্য জানি,
হ্রস্ব তরঙ্গ, দীর্ঘ তরঙ্গ ,
অনেক প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম,
রহস্য রোমাঞ্চ সিরিজ লিখব -
কিন্তু বেড়ালগুলোর জন্যে সব গোলমাল হয়ে গেল!
❑ টাইম মেশিন
কথা থেমে গিয়েছিল? শুরুই তো হয়নি কখনো!
প্রজাপতি কণ্ঠনালী গিলে ফেলেছিল,
প্রেয়ার লাইনে, সেই সোনাঝুরি গাছটার নিচে
দাঁড়াবার কথা ছিল, উতল উত্তরীয় যার...
চাঁদ ভেসেছিল একা, ভালবেসেছিল,
ছাদ হয়ে তারাজ্যোৎস্না, অশ্রুর আড়ালে
বছর বছরগুলি জলের মতোন
আঙুলের ফাঁক দিয়ে কালসিন্ধু পানে ছুটে গেল ।
কাল যায়, কাল যায়, অকস্মাৎ মাটি কেঁপে ওঠে
এখানে ঈশ্বর ছিল! ছাই হয়ে! বিস্ময় -অতীত,
এই ভূমি সত্য করে, এই অগ্নি সত্য করে বলো-
আর কোনদিন তুমি, ফেলে রেখে কোথাও যাবে না!
❑ লাইব্রেরি
ওরা অনেক লাইব্রেরি পুড়িয়ে দিয়েছে, এখনও পোড়াচ্ছে, ভবিষ্যতেও পোষাবে,
আমি এর মধ্যে অনেক কষ্টে একটা অদাহ্য লাইব্রেরি খুঁজে পেয়েছি ।
বইগুলো কেউ হ্রদ, কেউ নদী, কেউ বা সমুদ্র -
কিছুতেই আগুন ধরে না,
আমি যখন ইচ্ছে ঝাঁপ দিতে পারি,
এ ভারি মজার লাইব্রেরি!
যেখানে আসার সময় ব্যাগে সুইমিং কস্টিউম নিয়ে আসতে হয়!
আমি ভাসতে ভাসতে পড়ি
ডুবতে ডুবতে পড়ি
সাঁতারের চিৎ, উপুড়, প্রজাপতি, এমনকি প্রণয় -রুদ্ধ ভঙ্গিমাও আমার শেখা হয়ে যায়।
লাইব্রেরিতে তো লোকে শেখার জন্যেই আসে, আমিও এসেছি ।
এতটাই নতশির যে প্রবেশের দরজাই প্রথমে খুঁজে পাচ্ছিলাম না,
তারপর দেখি, কোন দরজাই নেই
এটা একটা ওপেন লাইব্রেরি,
সবুজ সিরাপের মতো ছোট ছোট বনবীথি দিয়ে ঘেরা,
তাই অনেকেই প্রথমে ঢোকার রাস্তা খুঁজে পায় না,
আমি পেয়েছি ।
আমি অনেক দূরের এক গ্রহ থেকে হাঁটতে হাঁটতে
এখানে এসেছি পাঠ করে তৃপ্ত হব বলে,
আমাকে নেবে না লাইব্রেরি?
❑ টিস্যু পেপারের পানসি
মাঝ চিলিকায় শোনা যায়
বুকের ভেতর ঝুরঝুর করে বালি ভাঙছে,
পুরো বালি ঝরে গেলে
আবার ঘড়িটা উল্টে দিতে হয়,
আমাদের ছোঁড়া একলেয়ার্স চুষতে চুষতে
মাঝি বলে
- এদিকে নয়, ওই ওই দূরে,
ওই যে, ওই...
বকের পাখার মতো
ছোট্ট একটা দ্বীপ,
তারপর একটা সমুদ্র,
তারপর একা,
তারপর ছবি পাল্টানোর গল্প...
ফেরার পথে
গুর্জরী মুড়ির সঙ্গে
রাজধানীর চিপস -
টিস্যু পেপারের পানসি
সব নিয়ে ফিরছে,
নামগুলো শুধু আটকে গেছে
মায়াবী শ্যাওলায়!



Comments