মায়াগাছ
- Sutarang Prakashana

- Jul 21, 2020
- 3 min read
© প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
কবি ও গল্পকার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় -এর মায়াগাছ অণুগল্পের বই। অণুগল্প উঠে আসে তাঁর লেখায় পরিচিত দৃশ্য থেকে...যা কখনও কখনও কাব্যিক হয়ে ওঠে...

বাবার পকেটে টান পড়েছে। বাবা এ রকমই।এই করে বাড়ির দে'য়ালগুলো বাদে কিছুই নেই...
গল্প
❑ বিনোদের একদিন
ঘুম থেকে উঠেই বিনোদ দেখতে পেল জানলা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে বিছানায়। বেশ চড়া রোদ। বালিশের নীচ থেকে মোবাইলটা বের করে সময় দেখতে গিয়ে দেখল চার্জ নেই। মেজাজটা বিগড়ে গেল। সারারাত পাখির সাথে চ্যাট করতে গিয়ে কখন যে ফোনটা অফ হয়ে গেছে..
গতকাল কিন্তু বিছানায় রোদ এসে পড়েনি। আজ পড়ছে। কারণ, জানলার বাইরের কাঁঠালগাছটা আর নেই। কাল সেটা কাটা গেছে বাড়ির সামান্য জমি থেকে। পাশের প্লটে বাড়ি উঠছে। গাছটা তাদের অসুবিধা করছিল। বিনোদ আসল কারণটা জানে। বাবার পকেটে টান পড়েছে। বাবা এ রকমই।এই করে বাড়ির দে'য়ালগুলো বাদে কিছুই নেই।
'বেলা এগারোটা বাজে, এখনো ষাঁড়ের মত ঘুমাচ্ছিস? বাপের সুপুত্তুর! যেমন মাতাল বাপ, তেমনি তার ছেলে!’ মায়ের গর্জন শুনে বোঝে এখন ঘড়ির কাঁটা মধ্যমে। মোবাইলটা চার্জে বসিয়েই বিনোদ বাথরুমে ছোটে। বারোয়ারি বাথরুম। দু'ঘর ভাড়াটের সাথে শেয়ার করতে হয়।
আজ দুপুরটা দাদুর চায়ের দোকানে মন টিকলো না। বিনোদ বাড়ি চলে এলো। জানে তাদের বাড়িতে ঠিকঠাক সময়ে হাঁড়ি চড়ে না। তবু আজ তার তাড়াতাড়ি খেতে ইচ্ছে করল। কিন্তু মা'কে বলার সাহস হল না। কারণ, কবি বিনোদ সেনের চাকরী নেই, তার বাবা নিহার সেন চল্লিশ পেড়িয়ে আর চাকরি করেননি। মা সেলাই করে, ঘর ভাড়ার টাকায় সংসার চালান। আজ বিনোদের একশোটা টাকার দরকার ছিল। শিবুদার কাছে অনেক ধার।টিউশনে কামাই প্রচুর। মাইনে ঝুলাচ্ছে ছাত্রের বাবা।অথচ..
বিদেশ পত্রিকার সুবিনীতদা বিকালবেলায় ফোন করলেন, "বিনোদ,তোমার লেখাটা পেলাম না। আজও দিলে না। তোমার জন্য রাখা স্পেসটা আমাদের হাউসিং কমিটির সেক্রেটারি অনুকুল সাহাকে ছাড়তে হল। ভদ্রলোক নতুন এসেছেন লেখার জগতে। তবে সাহিত্যে খুব আগ্রহ। বর্ধমানে তিন তিনটে হিমঘর আছে। কিন্তু কি অমায়িক ব্যবহার। মেয়ের বিয়েতে আমাদের সবাইকে বলেছিল। কি এলাহি আয়োজন..বুঝলে? হ্যালো.."
বিনোদ এখন টিউশনে গিয়ে ছাত্রকে মনোযোগ সহকারে পড়াচ্ছে। রাত দশটা বাজে। এ মাসের মাইনে সে নিয়েই ছাড়বে। মা বলেছে,ফেরার পথে নান্টুর মুদিদোকান থেকে কেজিখানেক আলু নিয়ে যেতে। বিনোদ জানে অনুকুল সাহার হিমঘরে বস্তা বস্তা আলু থাকলেও তাদের ঘরে আজ রাতে ভাতের সাথে খাবার জন্য কোনো তরকারি নেই।
❑ রমেনবাবুর গল্প
একটু বেশী বয়সেই বিয়ে করেছিলেন রমেনবাবু। চাকরী করতেন রাজস্ব দপ্তরে। সেখানেই এক ক্লার্ক নিজের শালীকে ঝুলিয়েদিলেন রমেনস্যারের গলায়।
যখন তিনি বিয়ে করলেন তখন তার হজম শক্তি কমে গেছে, চোরা ঢেকুর ওঠে, ইউরিক এসিডের কারনে মাংস আর সুখাদ্য খাওয়া বারণ। নেহাৎ ডাক্তারবন্ধুর পরামর্শে চলে শরীরটা বাহ্যিক তারুণ্যে ভরা ছিল। কিন্তু বিয়ের পরেই সমস্যায় পড়লেন। যে কাজ কোনোদিন করেননি সেইসব কাজ করতে গিয়ে বার বার বিড়ম্বনায় পড়তে লাগলেন। অফিসের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাড়িতে মেনি বিড়ালে রূপান্তরিত হলেন। পাড়ার ছেলেরা দাদার খোঁজে প্রায়ই বাড়িতে আসতে লাগল। নতুন বউদির চায়ের তারিফ ক্লাব পর্যন্ত পৌচ্ছে গেল। রমেনবাবু বউএর গর্বে খুশি হলেন।
আগে রমেনবাবুকে রান্না করে দিতেন পাড়াতুতো এক বউদি। লোকে পিছনে নিন্দা করত। বউদির সঙ্গে পরকীয়া এসব রটনা হঠাৎ থেমে গেছিল রমেনবাবু বিয়ে করায়। কিন্তু বউদিটি মনে মনে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। সোনার ডিম পাড়া হাঁস হাতছাড়া হলে যা হয়। তিনি বলতে লাগলেন, ঠাকুর পো তোমার বউটিকে নজরে রেখো। পাড়ার ছেলেদের সাথে যা ঢলাঢলি...।
রমেনবাবু ভাবলেন, তিনি তো বউকে সময় দিতে পারেন না। একা মেয়েটা কি করবে!
একদিন রমেনবাবু অফিস যেতে গিয়ে ফিরে এলেন। গুমোট গরমের পর হালকা বৃষ্টি দেখে মনটা উদাস হয়ে গেল। বউএর জন্য মন কেমন করে উঠতেই সোজা ট্রেন থেকে নেমে ফেরার ট্রেন ধরলেন।আজ বউকে সারপ্রাইজ দেবেন। ভুল! বউ তাকে সারপ্রাইজ দিল। বন্ধ দরজা খুলল, ঘর থেকে বেরিয়ে এল পাড়ার ক্লাবের ফুলটাইমার নেপু।
রমেনবাবুর আবক্ষ ছবি এখন ক্লাবের দেওয়ালে। রমেনবাবুর বাড়িটি বিক্রি হবে। পাড়ার সেই বউদি বলছিলেন, রমেনের বউএর সেই ক্লার্ক জামাইবাবু অফিসের টাকা পেয়ে শালীকে নতুন ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছেন শহরে।
স্বামীর চাকরী পেলেই রমেনের বউ নতুন কিছু ভাবতে চায়, তার আগে নয়...
Book Details
Cover Design: Tushar Kanti Saha
Publisher: Sutarang Prakashana
Language: Bengali
ISBN: "978-81-944063-0-3"
Published on: 2020
Price: 50.00
For Sale: Communicate 09564321311

Comments